ই-ম্যাগ , ১২ ই জানুয়ারি ২০১৪

কবিতা:-

বেনেথিয়াম রৌদ্র

    সংযুক্তা সিরিজের কবিতা

বন্ধু সে 
যে ভুলটা প্রথম ধরিয়ে দেবে

আদর তো তুমি দেবেই !

দুই.

তোমার কবিতা ভালো লাগেনি 
একথা বললে তোমার যতটা খারাপ লাগে
ততটা ভারাক্রান্ত মন…

তিন.

….অনু
অনুপম
অপূর্ব রৌদ্রের স্নান… 

দেবাশিস বিশ্বাস

     অথবা তোমার হৃদপিণ্ড 

পৃথিবী কি কমলালেবুর মতো গোল

অথবা তোমার হৃদপিণ্ড…!

তোমার হৃদপিণ্ডে ঝুনঝুনিওয়ালা সন্ধ্যাভাজা রেখে যায়

এবং

দু’একটা কোয়া, মাসুম ত্বক

ফেয়ার এণ্ড লাভলি মানের

উৎকৃষ্ট মানের চেয়ে ফড়িং বেশি জরুরী

হাওয়ায় হাওয়ায় ডানা তার;

কি প্রগাঢ় ম্যাজিলান ভায়া খোঁজে স্নায়ুতন্ত্রের জল

সেখানে ভাসমান জাহাজ

জাহাজ জানেনা, কখন তার বিপদসঙ্কেত বাজে

পৃথা মুখার্জ্জী

     মন খারাপ

অসম মন; শরীর; অনুভূতি…. 

বার বার ঠোকাঠুকি ; ছিটকে সড়ে যাওয়া আলাকব্র্ষ দূরে

তবুও যুগ যুগ পথ চলা; একসাথে সমাজ; সংসার; অভ্যেস….

নাকি তার চেয়েও কিছু বেশি?? চুম্বকীয় টানে বাঁধা দুই নাও

গেলে যেতেই পারতো উত্তর আর দক্ষিণ মেরুতে

ভূগোলের ম্যাপে জায়গা পেত নতুন ভুখণ্ড…

জলপ্রপাতের গতি; মরুভূমির উষ্ণতা;

অতলান্তিক সাগরের গভীরতা;আন্টার্টিকার শীতলতা

অজানা রয়ে গেল আরও কত কি

রোজনামচায় আটকা জীবন

পড়ন্ত বিকেলে আজানের শব্দ

উসকে দেয় আরও একটু মন খারাপ।

শুভজিৎ বসাক

    খোলক অলঙ্কার

নদীর মতো জোয়ার স্রোতে ভাললোবাসা এসেছিল,

দু’জনায় ভালোবেসেছিলাম খুব দু’জনাকে,

কিন্তু ভাঁটার টানে যখন সে ভালোবাসা শুকিয়ে গেলো,

সত্যি তা অভিসারই ছিল।।

জল সরে যেতেই দেখি মাটি শুকনো হয়ে এলো-

দেখলাম তাতে অসংখ্য মৃত শামুকের খোলা পড়ে।

ঝিনুক ভেবেই ভালোবাসতে গিয়েছিলাম তোমাকে,

কিন্তু পারলাম না;

দেখো এই খোলকই সাজিয়ে এমন অলঙ্কার গড়বো

যা তোমার ঐ সজীব ঝিনুকের চেয়েও দামী হবে।।

হ্যাঁ গো, আমি পারবো দেখো,

তুমি চাইলে ঐ খোলকের অলঙ্কার কিনতে পপারো,

আর কি কেউ নেবে ঐ মৃত শামুকের “খোলক-অলঙ্কার”??

শ্রেয়া ঠাকুর

     হিসেব

জন্ম হয়নি বহুদিন,

এক মৃত্যু মুখী পার্থিব অন্ধকার
ছুঁয়ে আছে গভীর নাভি আসলে যা
প্রেমহীন শরীরের আত্মপক্ষ সমর্থন।
 
কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দু টুকরো অস্তিত্ব
তখন নিছক অভ্যাসেই
দশ আঙ্গুলে হাতড়ে চলেছে 
অলীক জন্মদাগ।

 

                             

                                              -: অণু গল্প :-


সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

      ব্যবধান

অনেকদিন পর তোকে দেখলাম’ রিক্সা থেকে নামতেই কৃষ্ণেন্দু এগিয়ে দুজনেই কোলাকুলি সারে, বাসে উঠে সারা রাস্তা চলে পুরানো স্মৃতিচারণ।।কলেজ চলে আসে দ্রুত, কথা যেন শেষই হয় না।কলেজে ঢুকে দুজনেই ফরম জোগাড় করে নেয়। কৃষ্ণেন্দু একটু তাড়াতাড়ি ফিল আপ করিস, এই রুটে বাস কম।এক ঘণ্টা পর।কি রে তুই যাসনি?’ নাহ তোকে ফেলে চলে যাব? কি করছিলি বলত এতক্ষণ? তিনটে বাস চলে গেল দেখ এবার বাস আছে কি নেই।সিগারেটটা অমলেশের হাত থেকে নেয় কৃষ্ণেন্দু ‘দেখ ঠিক পেয়ে যাবি’।মানে? আর তুই? ‘আমি বিধান এর বাইকে যাব ওইতো আসছে’। কৃষ্ণেন্দু চেপে বসে, ‘আসছি রে পরে দেখা হবে’।

শ্রীবুদ্ধ পাঠক

কীর্তন 

শীতকাল । কীর্তনের সময় । আকাশ বাতাস রাধাময় ।ছোটবেলা ঠাকুরমার সঙ্গে কীর্তনে যেতাম । দুটো কারণ । এক বাতাসা । আর দুই সন্ধ্যাবেলা পড়তে বসতে হবে না ।

আমার এক বন্ধু ছিল । মুকেশ । ভারী দুষ্টু । সে একটা কান্ড ঘটালো ।

সেদিন আমার পাশে ও নেই । হঠাত্ দেখি ওকে এক কাঠ বুড়ো তাড়া করেছে ।ও দৌড়চ্ছে । এক পায়ে চটি নেই । ওর মায়ের শালটা ফেলে পালিয়েছে । কী হ’লো –চলে এলাম ।

শুনলাম ওর মুখেই । কৌতুহল বশে মুকেশ জানতে চাইছিলো ,কেন মাঝে মাঝে কীর্তনে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আর কাঁদে ? ঠিক কথা ।এ প্রশ্ন আমার ও । ও নাকি মুড়ি দিয়ে বসে ছিল । এক বুড়ো ওকে জড়িয়ে ধরছিল । একবার ও তাকে শক্ত করে ধরে রাখে ।আর ছাড়ে না । বুড়ো বলে , অনেক্ষন হ ইয়ে গ্যাছে –এবার ছাইড়ে দাও…মুকেশ তো ছাড়ে না । ফলত এই বিপত্তি ।

কীর্তনের পাশ দিয়ে আসার সময় দেখতে পাচ্ছিলাম , এক পায়ে চটি মুকেশ দৌড়চ্ছে…

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s