তিনটি অণুগল্প-অমিত কুমার বিশ্বাস

Posted: October 23, 2014 in ওয়েবজিন, কার্ত্তিক ১৪২১, গল্প

অমিত দা

রঙ

সে আর ফেরে নি। যদিও অনেক দিন হল। ছোটু  এখন হাঁটতে পারে। মা মা বলতে পারে । বাতাসে শিমুল-পলাশের মায়া এল। তবুও…
তবু অপেক্ষা। হয়তো গ্রামের পথের  ধুলো  ওড়াতে ওড়াতে আসবে সে। আবিরে আবিরে ভরে যাবে গোটা এলাকা। লোকজন ছুটে আসবে ঘরবাড়ি থেকে।
 নুনি দাওয়ায় বসে। রঙ এল। চলে গেল। পান্নার পড়ে থাকা পিচকারি হাতে নিয়ে ছোটু খেলছিল। সামান্য গোলা রঙ পড়ে আছে। নিষ্পাপ হাতের চাপে বেরিয়ে আসে। একটু খানি রঙ লেগে যায় নুনির মুখে। ঠোঁটে। অমনি ছোটুকে জড়িয়ে ধরে। তুমুল ভাবে। মেঘ করে ছিল । এবারে বৃষ্টি ঝরতে থাকে অঝোরে।

 

 

রিজারেকশান

 

অনির্বাণ  রতনপুর ফিরে এল প্রায় দু-দশক পর। যশোদার চোখে ছানি । তবু স্নেহের ঘ্রাণে বৃষ্টি নেমে এল দু-চোখে। বহুদিন পর।
 পাশের বাড়িতেও ছানি। পা রাখতেই নেপথ্যে বাঁশি বেজে  ওঠে। ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা সুখ-অসুখের অতীত উঠে এল। শ্রাবণ এল। ঝুলন এল। রাধাকৃষ্ণ সাজা এল। গোপিনীরা এল। যমুনা এল। ঢেউ এল। সব সব উঠে এল এক  করে। যেন করোটীর গভীর গহিনে নেমে ইতঃস্তত  হামাগুড়ি দিচ্ছে  স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।
হঠাৎ  ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ছানিপড়া বাড়ির আশ্রয়ে অনির্বাণ। শ্রাবণসুরে ভিজে গেল ঝোপঝাড়। দোলনা। রাধাকৃষ্ণ। গোপিনীরা। যমুনার কিশোরী বুকে নামছে জলের ধারা। অবিরাম।
বৃষ্টি থামে। নৈশঃব্দ্যের মধ্যে হেঁটে যায় রাধা। পেছনে কৃষ্ণ। নেপথ্যে  বাঁশি।

 

 

কমিটমেন্ট

 

মোবাইলটা টেবিলে রেখেই বাথরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিল সুদীপ্তা। ফিরে  এল মিনিট দশেক পর । এর মধ্যেই সাত সাতটা মিসড কল। তিনটে মেসেজ। ‘Happy Anniversary Mrs Som’, ‘Coming in the afternoon darling’ ও ‘Why late?’  শেষেরটা সুজিতের। রাতে পার্টি।খুব চাপ।কল ব্যাক করল।
-হ্যালো।
অপর প্রান্তে কোনো কথা নেই। মুখে একটা বিরক্তি ভাব। ‘Coming within an hour.’ সেন্ট  হল। তোয়ালে সরিয়ে নাইটিটা গলিয়ে নেয়। এসময় নীরবে ঘরখানি  খোলা বাতাসের মতো চোখ মেলে দেখে নেয়  গহীন পলাশের  গহনে  ঝাঁকে ঝাঁকে  উড়েআসা  পাখিদের আদরে লেখা এলোমেলো পান্ডুলিপির  অবিরাম সন্তরণ।
 নিজেকে এলিয়ে দিল সোফায়। হাতে রিমোট । টিভিতে ঠান্ডা পানীয়র বিজ্ঞাপনে এক নব্য ভারতরত্ন । চেঞ্জ। সিরিয়াল। সিনেমা । ক্রিকেট। ফিক্সড । সব ফিক্সড। পাতা ওলটানোর মতো এগিয়ে যায়। ডোরবেল বাজে। দরজা খোলে। একজন ঢোকে। বসে। চা খায়। হাত দুটো এগিয়ে দেয়। পিছিয়ে নেয়। আবার  চলেও যায়। সুদীপ্তা আবার ফ্রেশ হতে ছোটে। টেবিলে ফোনটা  কেঁপে ওঠে । দু’বার। একাকী।
Advertisements
Comments
  1. […] অমিত কুমার বিশ্বাস […]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s